প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় বিপ্লবের যে ডাক দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন হলে স্বাধীনতার ১০ বছরে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতো।
শুক্রবার বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের যে কর্মসূচি জাতির পিতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে পরিকল্পনা, সেটা যদি তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারতেন—তাহলে স্বাধীনতার মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারতো। দুর্ভাগ্য, সেই সুযোগটা তাকে দেওয়া হলো না।’
‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান একসময় নিষিদ্ধ ছিল। এই জয় বাংলা স্লোগান দিতে গিয়ে, ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে আমাদের কত কর্মী জীবন দিয়েছে। আজকে সেই জয় বাংলা স্লোগান আবার ফিরে এসেছে। যে স্লোগান দিয়ে লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই স্লোগান নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এখনও যারা এই স্লোগানটা দেয় না, তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস করে না।’
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের দেশের প্রকৃত ইতিহাস শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘যাতে কোনও হায়েনার গোষ্ঠী বাঙালির অর্জনগুলো আবারও ছিনিয়ে নিতে না পারে।’তিনি বলেন, ‘এ জন্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের ইতিহাসটা শেখাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষা দিবস, বাংলা ভাষার জন্য এ দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে গেছে। যে দিবসটা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এটা কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশুদের জানতে হবে এবং শেখাতে হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খানও বক্তৃতা করেন এবং গণভবন থেকে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।