তিব্বতিদের সঙ্গে নির্বাসিত স্বজনদের যোগাযোগে বাধা, নজরদারি বাড়াচ্ছে চীন

তিব্বতের ওপর দমন পীড়ন অব্যাহত রাখতে এবার চীন তিব্বতি এবং তাদের পরিবারের সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত আত্নীয়দের ওপর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়াও তাদের মধ্যকার অনলাইন যোগাযোগ সীমাবদ্ধ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

এতোদিন ভারতে নির্বাসিত তিব্বতিরা তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মারখাম প্রদেশে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বিনামূল্যে সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাট অ্যাপের উপর নির্ভর করত। তবে চীন তার নজরদারি জোরদার করার পর সেই অ্যাপগুলো আর সঠিকভাবে কাজ করছে না বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে রেডিও ফ্রি এশিয়া।

ভারতে নির্বাসনে থাকা কেলসাং গ্যাতসো নামে একজন তিব্বতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট অ্যাপস ব্যবহার করে তিব্বতে আমার পরিবার এবং আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিলাম, কিন্তু জোরদার নজরদারি এবং বিধিনিষেধের কারণে কয়েক মাস আগে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কীভাবে আছে বা কেমন আছে সেটা জানতে না পারা খুবই উদ্বেগজনক এবং আমি নিশ্চিত যে আমার সুস্থতা সম্পর্কে কোন খোঁজ জানতে না পারাটাও তাদের জন্য উদ্বেগের।’

প্রসঙ্গত তিব্বত আগে হিমালয় অঞ্চলের একটি স্বাধীন দেশ ছিল। ১৯৫০ সালে এক আগ্রাসনের মাধ্যমে চীন দেশটির দখল নেয় এবং তখন থেকে দেশটি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা শাসিত হয়েছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, নিকটবর্তী চীনা প্রদেশগুলোর আশেপাশের তিব্বত অঞ্চলগুলোতে চীনা কর্তৃপক্ষ ধর্ম, মত প্রকাশ, চলাচল এবং সমাবেশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। সেখানে স্থানীয় কর্মকর্তারা তিব্বতিদের খনি ও জমি দখল করে নেয় এবং যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ বিশ্ব প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীন সরকার ২০২০ সালের নভেম্বরে অনলাইন যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার যে ঘোষণা দিয়েছিল, তাতে দাবি করা হয়েছিল যে এসব যোগাযোগ জাতীয় ঐক্যকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং ২০২১ সালে অনলাইনে অপরাধের অভিযোগে তিব্বতিদের আটকে রাখাও হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিব্বতীরা, তারা যে কারণেই চীনের বাইরে কোন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করুক না কেন, তাদের হয়রানি এবং শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

আরএফএ ওই অঞ্চলের অভ্যন্তরে এবং নির্বাসিত তিব্বতিদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চীনের কট্টরনীতি নির্বাসিত তিব্বতিদের জন্য তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা আরও কঠিন করে তুলেছে।

তিব্বতের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুসারে, বহির্বিশ্বে তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করার জন্য চীন নির্বাসিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিব্বতের তিব্বতিদেরও ট্র্যাক করছে। সেইসঙ্গে চীনা সরকার তিব্বতিদের বাইরের প্রাপকদের কাছে অর্থ স্থানান্তরও নিষিদ্ধ করা শুরু করেছে।

তিব্বতিদের ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্য, চীন সরকার রাজনৈতিক প্রচারণায় জড়িত নির্বাসিত তিব্বতি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের তিব্বতের অভ্যন্তরে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা আরও কঠিন করে তুলছে।

এদিকে ভারতে নির্বাসনে থাকা একজন তিব্বতি সাংবাদিকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, এটা সত্য যে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে নির্বাসিত তিব্বতিদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে এবং নজরদারি করছে। বিশেষকরে তাদের, যারা সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক প্রচারণা এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। তথ্যসূত্র : এএনআই

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *