প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল সোমবার বিকেলে বনানী স্টার টাওয়ারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি কনফারেন্স হলে দুই পর্বের আয়োজনে প্রথম পর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. রায়হান আজাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইফ্ফাত জাহান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. রায়হান আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও জয় বাংলা এই তিনটি শব্দ এক সুঁতোয় গাঁথা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্থিত্বকে অস্বীকার করা। পৃথিবীর কোন দেশে জাতির পিতাকে নিয়ে বিভেদ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এতোটাই অভাগা এখানে বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনককে নিয়ে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, এমনকি এখনো হচ্ছে। যে মানুষটির দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি, বলিষ্ট নেতৃত্বে আজকের এই স্বাধীন দেশের জন্ম, তাকে সকলের অন্তরের ভেতর থেকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইফফাত জাহান বলেন, স্বচক্ষে দুইবার বঙ্গবন্ধুকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেটাই আমার জন্য বিরাট অর্জন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমরা নতুন করে অনেক কিছুই জানতে পারছি। যেই সুযোগটা আগে ছিল না। কেননা আজকে আমাদের এই পর্যন্ত আসতে বড় একটি রাজনৈতিক পরিক্রমা অতিক্রম করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তার যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের সকলের উচিত এই এগিয়ে যাওয়ার পথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী মোল্লা বলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে বিশাল পরিসরে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। সেকারণে বঙ্গবন্ধু কোনো দলের সম্পদ নয়, তিনি জাতীয় সম্পদ। তাই মহান এই নেতাকে দলমত নির্বিশেষে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। আর জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরন্তর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সে দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. শুভময় দত্ত। আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন শেখ মো. হাসানুজ্জামান, রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত)ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, ইইই বিভাগের চেয়ারপারসন নাজীব বরণ রয়সহ অন্যরা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মানবিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাসরীন আক্তার।

আলোচনা শেষে জাতির পিতার জন্মদিনের কেক কাটেন আগত অতিথিরা। দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি পরিবেশন এবং শিশুদের পুরষ্কৃত করা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *