পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে লালু ওরফে লালনের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন ভাতা, সরকারি ঘর, গর্ভকালিন ভাতা ও সাবমাসেবুল পাম্প পায়িয়ে দোবার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের তালিকায় রয়েছে ভিক্ষক, প্রতিবন্ধী, কাজের আয়া, ও অসহায় পরিবার।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পাঁচ ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর স্ত্রী ভিক্ষুক সারেহা খাতুনের নিকট থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেবার কথা বলে ৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত লালু। মাসের পর মাস চলে গেলেও সে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন নাই। এমনকি ভিক্ষা করে যোগার করা তিন হাজার টাকাও ফেরত দেন নাই।
একই গ্রামোর আফসার আলীর স্ত্রী ছানু খাতুন। তিনি অন্যর বাড়িতে কাজ করে জীবন যাপন করেন। তাকে সরকারি ঘর দেবার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন একই প্রতারক লালু। টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনিও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলার পাগলা গ্রামের মৃত রোফাতের ছেলে দুলাল শেখের নিকট থেকে সরকারি ঘর দেবার কথা বলে ১২ হাজার টাকা,রঘুরামপুরের ইকাব্বর আলীর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা, পাগলা গ্রামের মাযা খাতুনের নিকট থেকে ঘরের কথা বলে ১০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে ফিরছে লালু ওরফে লালন।
রঘুরামপুর গ্রামের ছদর মৃর্ধা জানান, তার পুত্র বধুর নামে গর্ভবর্তী ভাতা করার কথা বলে লালু ৬হাজার টাকা নিয়েছে। আজ বছর পার হলেও সে টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা কার্ডও করে দিচ্ছে না। টাকা চাইলে আমাদের হুমকী দেন।
এলাকাবাসী, সাহাদৎ ও বাবু জানান, লালু এলাকার ১৫/২০ জন অসহায় ব্যক্তির নিকট থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করেছে। সে উপজেলার প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গীয়ে ভাতার কার্ড ও ঘর দেবার কথা বরে এ টাকা আত্মসাত করেন।
অভিযুক্ত লালু ওরফে লালন জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।
ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিন্চু জানান, এলাকার লোকজন আমার নিকট লালুর বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিল আমি তাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠিয়েছি। স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বহী অফিসার জাহিদুল রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারদের যথাযথ সহযোগীতা করা হবে। বর্তমানে ভাতা প্রাপ্তিতে কোন অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। অর্থ আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।