এসএসসি ফলাফলে শতকরা হারে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তির সংখ্যায় প্রথম স্থান দখল করেছে কাজিপুর উপজেলার তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়। এসএসসি -২০২৪ সালের পরীক্ষায় মোট ২০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০১ জন উর্ত্তীণ। পাশের হার ৯৮%। ঈর্ষনীয় সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকগণ।
এবছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ৮৬ জন, সবাই বিজ্ঞান বিভাগের। পরীক্ষার্থীর ৪১% এ+ প্রাপ্তিতে বিদ্যালয়টি কাজিপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে।
এ বছর মানবিকে ৩৬ জন,বাণিজ্য বিভাগে ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ।বিগত বছরের ন্যায় এবছরও শুধু বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরাই ভাল ফলাফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৫০ নম্বর পেয়েছেন ফারজান রাব্বি, সিয়াম রেজা ১২৪৯ নম্বর এবং আবদুল্লাহ আল সামী পেয়েছে ১২৩৭ নম্বর। ৩০ জনের অধিক ছাত্র-ছাত্রী ১২০০ উপরে নম্বর পেয়েছেন।ফলাফলের দিক দিয়ে ছেলেরা এগিয়ে। এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক এসএম গোলাম রব্বানী বলেন, আমাদের নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, আগামীতে আরো বেশি ভালো ফলের আশা করছি।
বিশেষ করে, অভিভাবক সদস্য মির্জা সোহেল রানার সার্বক্ষণিক তদারকি প্রশংসার দাবি রাখে। অর্জিত ফলাফল ব্যাপারে সোহেল রানা বলেন,গত বছর এই স্কুল থেকে মাত্র ৩৭ জন ছাত্রছাত্রী এ+ পায়।বিগত বছরের রেজাল্ট থেকে শুরু করে ২০২৩-২০২৪ সাল তারাকান্দি স্কুল বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ছিল সেটা সবাই জানেন। সভাপতি মহোদয়ের নির্দেশনায়, শিক্ষক অভিভাবক এবং স্কুলের সাথে আমি সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি এবং স্কুলের সার্বিক উন্নতি কল্পে ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর নিকট সহযোগীতা কামনা করছি।সবার সহযোগীতা পেলে বর্তমান রেজাল্টের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে পারবো ইনশাল্লাহ।
ঐতিহ্যবাহী তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভালো ফলাফলের সুনাম অর্জন করে আসছে।
এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, বাংলাদেশের ২ জন জাতীয় অধ্যাপক,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন, ডিফেন্স, ব্যবসায়ী,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ারসহ নানা পেশাজীবীর মানুষ। যারা দেশ ও জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখছেন।
এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন সফল ব্যবসায়ী জুলফিকার হায়দার তালুকদার।স্কুলটির ভালো ফলাফল করা নিয়ে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের পিছনে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া, শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রচেষ্টা এবং ম্যানেজিং কমিটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়টি ৫ বার নদীগর্ভে বিলীন হবার পর বর্তমানে গান্ধাইলে অবস্থিত।নানা প্রতিকূলতার মাঝেও স্কুলটির সুনাম ধরে রাখার সহায়তার জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্কুলকে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বস্তরের জনসাধারন এবং মুরুব্বিদের সহযোগীতা কামনা করেন।