ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় নির্বাচনের প্রচারনায় গিয়ে ফিরে আসেননি (পদ্মফুল) প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করা প্রীতি খন্দকার হালিমা নিখোঁজ হয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় বুধবার সকাল ১১টায় স্বামী বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ মে) বেলা ২ টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত প্রার্থীর কোন খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার নিশ্চিত করেছেন।
প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার বলেন, ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমার স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। সার্ভার ক্রুটির কারণে প্রীতির মনোনয়ন জমা দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনী এলাকায় সময় কম দিয়েছেন। এজন্য প্রীতি দিনরাত উপজেলায় নির্বাচনি কাজে সময় দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে হরষপুর ইউনিয়নে দুইজন সহযোগী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় যান প্রীতি। হরষপুরের ঋষি পাড়ায় ঢুকে প্রচার করা অবস্থায় দুজন মহিলা বাহিরে আসেন আর প্রীতি ভোটারদের সাথে ভিতরে কথা বলছিলেন। ১০ মিনিট, ২০ মিনিট পার হলেও যখন বের হচ্ছে না, তখন দুজন মহিলা ভিতরে যান। ভিতরে গিয়ে প্রীতিকে খোঁজে পাচ্ছিলো না।
পরে অনেকক্ষণ খোঁজখবর নিয়ে প্রীতিকে না পেয়ে বাড়িতে চলে আসেন। পরে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’সহ থানার ওসি মহোদয়কে অবগত করি। রিটার্নিং কর্মকর্তা অপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর জিডি করতে বলেছেন। রাত ১২টায় থানায় যাওয়ার পর ওসি বলেছেন সকালে জিডি করতে। বুধবার সকাল ১১ টায় বিজয়নগর থানায় জিডি জমা দিয়েছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন ইর্ষান্বিত হয়ে আমার স্ত্রীকে গুম করেছেন বলেও তিনি জানান।
বিজয়নগর নির্বাচনী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ মাহাবুবুল হক বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি প্রার্থীর স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। আমি প্রার্থীর স্বামীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে দিয়েছি।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীর স্বামী রাতে এসেছিলেন, তাকে নিয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রার্থী প্রচারে এসেছিলেন, জিডি লিখছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। জিডি মূলে তদন্ত করা হবে বলেও ওসি জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সদর-বিজয়নগর রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি অফিসিয়াল ভাবে আমাকে কেউ জানায়নি।