রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল নিউ টাউন আবাসিক এলাকায় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি আটতলা ভবনের ফ্ল্যাট মালিককে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন ঐ একই ভবনের আরেক অংশীদার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়ি চালক। অত্যাচারের তীব্রতা এতই যে ভুক্তভোগী পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ পানির সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন ওই পুলিশ সদস্য। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবার কে নানাভাবে ভয়ভীতি ও পুলিশ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে ঐ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের নাম লোকমান হোসেন।
তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ করেও মেলেনি প্রতিকার। ভুক্তভোগী ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, গত ২০১৪ সালে আমরা ছয় জন অংশীদার মিলে মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় তিন কাঠা জমির উপর রাজউকের অনুমোদন নিয়ে আটতলা ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নেই। গত ২০১৯ সালে বেইজমেন্ট থেকে ৪র্থ তলার পর্যন্ত নির্মাণ কাজ কমপ্লিট হওয়ার পর আমরা যার যার ফ্লাটে উঠে বসবাস শুরু করি। আমরা ছয় জন মিলে সমান হারে টাকা খরচ করে ভবনটি চারতলা পর্যন্ত কমপ্লিট করি। চতুর্থ তলায় নির্মাণ কাজের ব্যায় অভিযুক্ত লোকমান হোসেন এবং নাসির নামে অন্য একজন অংশীদার হিসাব সংরক্ষণ করে। আমরা বাকি চারজন অংশীদার চতুর্থ তলার হিসাব চাইতে গেলে আমাদের পূর্বের কাজের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিথ্যা কথা বলতে থাকে। এবং হিসাবে নানা গোজামিল তৈরি করে। এবং সে কথায় কথায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন যে কর্মকর্তার গাড়ি চালায় তার নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদেরকে ভয়-ভীতি দেখায়।
উক্ত নির্মাণ কাজে আমি ও অন্যান্য অংশীদাররা লোকমান হোসেন ও নাসির এর কাছে টাকা পাওনা হই। আমরা বাকি সদস্যগণ উক্ত পাওনা টাকার হিসাব চাইতে গেলে তারা হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এবং গত ২০২১ সালে পুলিশ সদস্য লোকমান হিসাব কে কেন্দ্র করে তার শ্যালক সানি, আপন ভাতিজা এবং নাসির উদ্দিন মিলে অংশীদার ফজলুর রহমান, এবং আমার ছেলে সাদমান কে মারধর করেন। সে বাইরে থেকে গুন্ডাবাহিনী নিয়ে এসে আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়-ভীতি দেখায়, এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তাছাড়াও উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
বর্তমানে আমি এই বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে মানবতার ভাবে জীবন যাপন করছি। আমাদের সন্তান লেখাপড়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য লোকমান হোসেন এতটাই বেপরোয়া যে সে কোন আইনের তোয়াক্কা করছে না। এই পুলিশ সদস্যের অত্যাচারে আমরা এখন নিরুপায়। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।