ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে চীনকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে আরো সময়ের দরকার বলে মনে করে সরকার।
আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এবারের সফরে আমরা খুব উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। সেই সঙ্গে আরো বলেছি যে, আপনারা (চীন) এটা নিয়ে যে স্টাডি করছেন সেগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। তারা নিশ্চিত করেছে যে তাদের কারণে পানির প্রবাহ কমবে না।
তিস্তার ব্যাপারে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই ইস্যুতে আলোচনা হতে হলে ওই সমাঝোতা আগে হতে হবে। এজন্য একটু সময় লাগবে। সমাঝোতা সই হওয়ার পর এটা নিয়ে আলোচনা হবে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সমাঝোতা নবায়ন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নবায়ন করার বিষয়ে ঢাকা-বেইজিং উভয়েই একমতে পৌঁছেছে। যেহেতু আমরা নবায়ন করব তাই তার আগে নতুন নবায়নে আর কী কী সংশোধন করা যেতে পারে তা দুইপক্ষই খতিয়ে দেখছে। এই নবায়ন ইস্যুতে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ তাদেরকে (বেইজিং) দিয়েছি, তারা তাদেরটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। একটু সময় লাগবে (নবায়নের খসড়া চূড়ান্ত হতে), তবে এটা হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুইপক্ষের সম্মতিক্রমে এই নবায়ন ইস্যুতে আরো কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করা হবে, এজন্য সময় লাগছে। তবে ‘ইয়ালুজাংবু-যমুনা’ নদীর জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবার সই হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চিকিৎসার জন্য চীনের কুনমিং ভালো হবে। সেখানে চিকিৎসা খরচ ও যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক কম। এক্ষেত্রে চীনকে ভিসা ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। যেহেতু ভারত ভিসা বন্ধ রেখেছে, সেক্ষেত্রে কুনমিং বিকল্প হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল করে দিতে রাজি হয়েছে চীন। সেটির স্থান নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা বলেছি, আমাদের হাতে পূর্বাচলে সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা জায়গা দেওয়ার কথা তাদের বলেছি।