ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ফ্যাসিবাদ মাফিয়াতন্ত্রমুক্ত দেশগঠনে রাসুলের সিরাত অনুসরণ অপরিহার্য। রাসুল (সা.) এর সিরাত থেকে দূরে থাকার ফলে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য, বেইনসাফ ও কায়েমি স্বার্থবাদগোষ্ঠী আমাদের ওপর চেপে বসেছে।
আজ শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত উন্নতি-অগ্রগতি ও মানবিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.) এর সিরাত শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলাম ছাড়া কোথাও শান্তি নেই উল্লেখ করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাসুল (সা.) যে নীতি আদর্শ নিয়ে এসেছেন সেই নীতির অনুসরণ ছাড়া সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সমাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
৫ আগস্টের পূর্বে দেশে যা ঘটানো হয়েছে তা মনুষ্য সমাজে ঘটতে পারে না। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় ইসলানী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা জীবনবাজি রেখে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জানমাল রক্ষায় কাজ করেছে। আর এটাই ইসলামের শিক্ষা
কিছু বুদ্ধিজীবী দেশকে নতুনভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদে আছেন এবং নিরাপত্তার সাথে আছেন। আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু ইস্যুকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে। এদেশের জনগণ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা রুখে দিয়েছে।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় নাগালে রাখুন। সিন্ডিকেট ভেঙে দিন। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার ও বীজ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সারের দাম কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করুন।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৩ বছরে এতো বেশি পরিমাণ সমর্থন আর কোনো সরকার পায়নি। এতো সমর্থন পাওয়ার পর আপনাদের ভয় কিসের আপনারা রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন আনুন। প্রয়োজনীয় সংস্কার করুন বিনা ভয়ে।
কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী যেন আপনাদের দ্বারা বিশেষ কোনো সুবিধা না পায় সেদিকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আমাদের শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হলে জনগণ তা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘দেশে নতুন করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে। আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করা হবে। ৫ আগস্টের পূর্বে যারা দেশে গণহত্যা করেছে, অনেক মায়ের বুক খালি করেছে, হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করেছে তারা মনে করছে আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছি। কিন্তু আমরা ঘুমন্ত নই। আমাদের চোখ কান খোলা রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে এতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ হামযাহ, মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা মুহাম্মাদ যাইনুল আবিদীন, মুফতি ওয়ালিউর রহমান প্রমূখ।
সিরাত সম্মেলনে হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, কিরাত ও মাসনূন দোয়া প্রতিযোগিতাসহ ৭ ক্যাটাগরিতে ১১০ জন প্রতিযোগীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন সংগঠনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।