নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় জমি জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম এবং স্ত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার গোদনাইল বাড়ৈপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী মোঃ মাসুম প্রধান এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় ৫ জনের নামে এবং ১৫/২০জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে সিদ্দিরগঞ্জ থানায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন গোদনাইল বাড়ৈপাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (৩০) মৃত মিছির আলীর পুত্র আফজাল হোসেন (৬০), আব্বাস আলীর পুত্র সালাম (৫৫), ও মোঃ আসলাম (৪৫), এবং আব্দুর রহিমের পুত্র স্বপন (৩৫)।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের সাথে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মাসুম প্রধানের দীর্ঘদিন যাবত জায়গা জমি বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল, এরই জেরধরে বিবাদীগণ সুযোগমতো পেলে খুন জখম করবে বলে মাসুম প্রধান কে ভয় ভীতিও হুমকি প্রদর্শন করে আসতেছিল। শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত বিবাদীগণ সহ ১০/১৫ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনি জনতা বদ্ধ হয়ে তার বাড়ির ভিতর অনধিকার ভাবে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগী বিবাদীদের গালিগালাজ করতে বারণ করায় তাদের হাতে থাকা লোহার রড এস এস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। এ সময় ১ নং বিবাদী মাসুম প্রধান কে লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। এসময় মাসুম প্রধানের ডাক চিৎকারে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কণিকা (২৮) এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ তাকেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে এবং চার ও পাঁচ নং বিবাদীদ্বয় ওই নারীর গায়ের জামা কাপড় টেনে ছিড়ে শ্লীলতাহানি করে।
এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রীকে সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মাসুম প্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা পরিবারের সবাই বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তারা বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মাসুম প্রধান।