ভিকটিম আবেদা সুলতানা ১৪(ছদ্মনাম) বর্তমানে বনগ্রাম ফাতেমাতুল জহুরা আদর্শ মহিলা মাদ্রাসায় কুদুরি শ্রেনীতে (বাংলায়-৮ম) অর্ধায়নরত আছে। সে প্রতিদিনের ন্যায় গত ০৪/৭/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৯.০০ ঘটিকায় মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বাড়ী থেকে বের হয় কিন্তু মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পরও আর বাড়ী ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বাদী তার মেয়েকে না পেয়ে ০৫/০৭/২০২৪ তারিখ বাদীর বাবা মোঃ হাসমত আলী(৫৪) এ সংক্রান্তে হালুয়াঘাট থানায় একটি নিখোঁজ সাধারন ডায়েরী করেন।
একই তারিখ তার মেয়ে হারানো বিষয়ে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জাতীয় জরুরী সেবা “৯৯৯” এ যোগাযোগ করলে “৯৯৯” তাকে ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহের কর্তব্যরত অফিসারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। বাদী ইং ০৫/০৭/২০২৪ তারিখ ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ এর অধিনায়ক বরাবর তরুণী নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্তে একটি অভিযোগ করে। বাদীর উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ এপিবিএন এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আলী আহমদ খান মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ২ এপিবিএন এর সাইবার ক্রাইম সেল এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের সিআইএ/এলআইসি শাখার উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের বর্তমান অবস্থান সনাক্ত করে।
সআই(নিঃ) সৈয়দ আসাদুজ্জামান এর নৈতৃত্বে একটি অভিযানিক দল ইং ১০/৭/২০২৪ তারিখ সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানা ও সুনামগঞ্জ সদর থানার একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একই তারিখ সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন লালপুর এলাকা হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং ০১নং আসামী মোঃ কামাল হোসেন(২০) কে গ্রেফতার করে এবং ০২নং আসামী মোঃ জাকির হোসেন(২৮), উভয় পিতা- মোঃ ইদ্রিস আলী, মাতা- সকিনা বেগম, সাং- আকতা পাড়া, থানা- বিশ্বম্ভরপুর, জেলা- সুনামগঞ্জ কৌশলে পালিয়ে যায়। ধৃত আসামী এবং ভিকটিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে বাদীর বড় মেয়ের সাথে ফেইসবুকের মাধ্যমে ০১নং আসামীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তাদের একে অপরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা চলতে থাকে।
এক পর্যায়ে আসামী ভিকটিমের নিজ ঠিকানা কৌশলে জেনে নেয় এবং ভিকটিমের সাথে সে দেখা করবে বলে জানায়। ভিকটিম তার কথায় রাজি না হওয়ায়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ০১ ও ০২নং আসামী ইং-০৪/৭/২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের মাদ্রাসার সামনে চলে আসে। এমতাবস্থায় ভিকটিম মাদ্রাসায় আসার সময় ভিকটিমের পথ রোধ করে তাকে ফুঁসলিয়ে কৌশলে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন আসামীদ্বয়ের নিজ বাড়ীতে নিয়ে ০২নং আসামীর সহায়তায় ভিকটিমকে লুকিয়ে রাখে এবং ০১নং আসামী ভিকটিমকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী এবং ভিকটিমকে হালুয়াঘাট থানায় সোপর্দ করে। আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে।