সাঁথিয়ায় চলতি মৌসুমে ৭হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ পাট সংগ্রহে শ্রমিক ও পানির অভাব

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার আবাদ না হওয়া, তীব্র তাপতাহ ও সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। তাপদহে জমিতেই মরে যাচ্ছে পাট। বৃষ্টি না হলে জাগ থেকে আঁশ সংগ্রহ ব্যাহত হবার আশংকা রয়েছে। মাঠ ও বিলে বৃষ্টির ও বন্যার পানি না থাকায় অতিরিক্ত খরচ করে পাট নিয়ে পানির সন্ধ্যানে ঘুরছে চাষিরা। জমি থেকে পাট ও কাঁঠী থেকে আঁশ সংগ্রহে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে শ্রমিকের পিছনে।

এবছর তাপদাহে আবাদ ভালো না হওয়ায় ফলন ভালো হচ্ছে না পাটের । তার সাথে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলা ব্যাপী। কোথাও পাট জাগ দেবার মত অতিরিক্ত কোন পানি নেই। খাল বিল, নদী, নালা সবই যেন পানি মুক্ত শুকনো চক। চলছে ভরা পাট কাটা মৌসুম। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে উপজেলার ঘুঘুদহ, সোনাই বিল, ইছামতি নদী ও আত্রাই নদীতে যথেষ্ট পানি নেই। পানি না থাকায় কৃষকরা জমি থেকে পাট কর্তন করতে পারছে না। যারা পাট কর্তন করেছে তা পানির অভাবে পঁচাতে পারছে না। পাটের ভরা মৌসুমে উপজেলাব্যাপী বৃষ্টির দেখা নেই।

জুলাই শেষে সামান্য বৃষ্টির দেখা দিলেও বৃষ্টির পানিতে ভরছে না খাল বিল। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলাব্যাপী ৭ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস। যার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় ৭ হাজার ৪শত ১০ হেক্টর। গত বছরে ৭ হাজার ৮শত হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি অফিস। চলতি মৌসুমে উপযোগী (উষ্ণ-আদ্র) আবহাওয়া থাকায় কৃষক জমিতে পাটের বীজ বোপন করে। পরবর্তীতে তীব্র তাবদাহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে স্বক্ষম হয়না।

বোপনের পর থেকে উপযোগী রোদ ও বৃষ্টির অভাবে জমির সবুজ পাট গাছ তর তর করে বেড়ে উঠতে পারেনি।
সরেজমিন উপজেলার পাট উৎপাদিত এলাকা আতাইকুলা, গৌড়িগ্রাম, ক্ষেতুপাড়া, কাশিনাথপুর, করমজা, নাগডেমরা, ভুলবাড়িয়া, নন্দনপুর বিল ও মাঠে গিয়ে দেখা গেছে পাট। কিন্তু উপযোগী আবহাওয়ার কারণে বেড়ে উঠতে পারিনি। ইতো মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের মধ্যে দিয়ে পাট কাটার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলার সোনালী আঁশ উৎপাদনকারী গোল্ডেন কৃষকরা। তবে পানি ও শ্রমিকের অভাবে পাট নিয়ে কৃষকরা পড়েছে ব্যাপক সমস্যায়।

উপজেলার কৃষকরা জানান, পাট নিয়ে আমরা মহা চিন্তায় রয়েছি। পাট জমিতে তাপদাহে পুরলেও পানির অভাবে তা পঁচাতে পারছি না। অন্য বছর নদী ও ক্যানালে পানি থাকলেও এবছর আত্রাই, ইছামতি নদীতে পাট পঁচানোর মত পানির চরম অভাব দেখা দিয়েছে।উপজেলার কাজীপুর গ্রামের পাট চাষি বাবু প্রামানিক জানান, বিলে বৃষ্টি ও বন্যার পানি না থাকায় অতিরিক্ত খরচ করে কাকেশ্বরী নদীতে পাট পঁচাতে হচ্ছে।

জমি থেকে প্রতি আটি (মুঠ) পাট কাটতে খরচ ৪ টাকা। জমি থেকে নদীতে আনতে পরিবহন খরচ ৪ টাকা। আঁশ ছাড়াতে খরচ হয় ৬ টাকা। এত খরচ করে লাভের মুখ দেখা অসম্ভব। গৌড়ীগ্রাম ও পৌর সভার কিছু অংশের কৃষকরা স্থানীয় জমির পাট ঘোড় গাড়ীতে করে কাকেশ্বরী নদীতে ফেলছে। সেখানে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে পূর্ণরায় পানিতে জাগ দিতে হচ্ছে। কৃষকরা জানান, পাটের জমিতে বা পাশ্ববর্তী পানি থাকলে অতিরিক্ত খরচ ও পরিবহন খরচ থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

বিষ্ণুবাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম জমি থেকে পাট কেটে ১ কিলোমিটার দুরে আত্রাই নদীতে হাটু পানিতে পাট পঁচান। তিনি বলেন পানি না থাকায় পাট পঁচাতে অনেক খরচ বেশি হচ্ছে। যা পাট বিক্রয় করে উঠবে না। একজন শ্রমিকের মূল্য ৮০০/= থেকে ৯০০/= টাকা। এত টাকা শ্রমিকের পিছনে খরচ করে পাট কাঁঠি থেকে আঁশ সংগ্রহ করলে আমাদের কিছু থাকে না। বরং পাট উৎপাদনে যে খরচ তাতে লোকসানের মুখে পড়েছি আমরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২ শত টাকা দামে সোনালী আঁশ বিক্রয় হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জীব কুমার গোষামী জানান, পাট উপজেলায় গত বছরের চেয়ে এবার পাটের আবাদ কম হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে আবাদ কম হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

 

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *