নারায়ণগঞ্জ জেলা রূপগঞ্জ থানা অন্তর্ভুক্ত গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের পাহাড়সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ও কথিত এই ভূমি কর্মকর্তা বৈষম্য ছাত্র জনতার আন্দোলনের নারায়নগন্জে সরাসরি গুলি করা নির্দেশদাতা সাবেক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বর্তমানেও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন নাম তার কামাল হোসেন ।
সুন্নতী লেবাশধারী মুখোশ পড়ে গোলাকান্দাইল ভূমি অফিসে স্থানীয় এলাকাবাসী জমি জমা খাঁজনা খাঁরিজ সহ জাল দলিল পাওয়া দলিল নামে টাকার বিনিময়ে ছাড়া কাজ করেন নাহ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন।
স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে গত ০৫ আগস্টে পড়ে আমেরিকা সহ পরিবারে পলাতক বাংলাদেশের আলোচিত ১০ মার্ডার গডফাদার ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আশীর্বাদপুস্ঠ হয়ে দুর্নীতিবাজ কথিত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ভূমি নায়েব কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার জন্য কুলাঙ্গার বৈষম্য ছাএ জনতার আন্দোলনের প্রকাশ্য গুলিবর্ষনকারী শামীম ওসমানকে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে জেলা নায়েবের সভাপতি চেয়ার বাগিয়ে নেন।
এই ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বর্তমানে নারায়গঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য ছায়া এখনও বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন কামাল হোসেন।
জানা যায়,১৯৯০ সালে সরকারী ভূমি অফিসে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসাবে চাকুরিতে যোগদান করেন। চাকুরির যোগ দান কালে ১২ শত টাকা বেতন স্কেলে চাকুরি শুরু করেন। চাকুুরি কালিন সময়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন ।
সরেজমিনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসে এক কর্মকর্তা জানান,কামাল হোসেন পারিবারিক ভাবে আর্থিক অনটনের মধ্যেই পরিবার চলছিলো । চাকুরীতে যোগদানের বছরের ঘুরতেই অবৈধ ভাবে গড়া অর্থের মালিক হতে থাকেন। এরপর কামাল হোসেনকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কোন রকম পরিবারের থেকে উঠে আসা কামাল হোসেন গড়ে তোলেন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নামে বেনামে একাধিক বাড়ি।
এরমধ্যে অভিযোগ উঠে নানা ধরনের অনিয়মের, ভূমি উন্নয়ন কর, দাখিলা, মিউটিশন,হাতে কলমে লিখে জাল পঁর্চা ও তদন্তদের নাম করে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন মোটা অংকের ঘুষ।
কথিত এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গড়েছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়, একজন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব তার গল্পটা শুনলে মনে হবেনা, যে তিনি তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। দালান কোঠা অট্টালিকা দেখে মনে হবে তিনি এ দেশের একজন শিল্পপতি। বর্তমানে বিলাস বহুল ফ্ল্যাট ঢাকা ওয়ারীতে কামাল হোসেন সহ পরিবারে বসবাস করছেন।
এতক্ষণ যে বিষয়গুলো বললাম, যার বিষয়ে বললাম আসুন তার সাথে পরিচয় হয়ে নেই। ওনার নাম কামাল হোসেন, বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার একরামপুর গ্রামে। গরিব ঘরের সন্তান কামাল, এক সময় তার পরিবারের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিল। সোনার হরিন সরকারী চাকুরী পাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার।
গড়ে তোলেন অবৈধ সম্পদের স্বর্গ রাজ্য।
একরামপুরে করেছেন আধিপত্য বিস্তার, মানুষের মনে সৃষ্টি করেছেন ভয় আতংক, তার বিরুদ্ধে কথা বললে কি যেন এক অদৃশ্য শক্তি গলা চেপে ধরে! স্থানীয় এলাকার সাধারণ মানুষ কামালের বিরুদ্ধে এভাবেই কথা গুলো বলেন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দুর্ধর্ষ ক্যাডার সাবেক এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে এমন কোন আকাম কুকাম নেই যে তিনি করেননি আওয়ামী সরকারের পতনের পর এলাকাবাসী কামালে হোসেনে বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কোটিপতি নায়েব কামাল হোসেনের সীমাহীন দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকাবাসী,
তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং জন হয়রানির অভিযোগের শেষ নেই। যেখানে যত বড় দুর্নীতি সেখানে তত বড় মাথা, আর এসব মাথা মানেই হলো কামালগংদের! কামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন ইউনিয়ন অফিসে চাকুরী করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, টাকা ছাড়া কমালের অফিসে কোনো ফাইলেই সই হয়না। অনেকেই বলছেন, টাকা দিলেও কামাল হোসেনের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। জমির নামপত্তন, হাল নাগাদ, খাজনা দাখিলা কর্তন, মিউটেশনে ভুলভ্রান্তির সংশোধন, ভিপি সম্পত্তি, দেওয়ানী মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, ১৪৪ ধারার পিটিশন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, এলএসডি মামলাসহ হরেক রকম কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেনকে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়,কথিত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সম্পদ যেন এক আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যকে গল্প কাহিনীর হার মানিয়েছে!!
এই ঘুষ বাণিজ্য করেই কামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ বন্দরের একরামপুরে কয়েক কোটি টাকার মূল্য সাত তলা বিশিষ্ট ভবন, পাশেই কোটি টাকার দশ কাঠার বাগানবাড়ি,বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার বিএসএস শাহ রোডে কয়েক কোটি টাকার মূল্যের বিলাসবহুল ১০ কাঠার ৬ তলা পাইলিং করে কাজ চলমান। ঢাকার টিকাটুলি ১০ অভয় দাশ লেন রোডেন সুফিয়ানী প্লাজায় রয়েছে কয়েক কোটি টাকার মূল্যের কয়েকটি প্লট। দুর্নীতিবাজ ভূমি সরকারি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বাসা হতে অফিসে যাতায়াত করেন পঞ্চাশ লাখ টাকা দামের বিলাস বহুল গাড়ি দিয়ে। এই দুর্নীতিবাজ কামাল হোসেনের একমাত্র কন্যাকে লেখাপড়া করাচ্ছেন ইউরোপে রেখে। সবমিলিয়ে দেশের নামি দামি শিল্পপতিদের মতন স্টাইলে চলাফেরা কামাল হোসেনের। নামে বেনামে রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স।
এসব অভিযোগকারীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এই কাজের দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেনের প্রধান হাতিয়ার অফিস সহায়ক রাসেল সহ বেশ কয়েকজন। অফিসের রাসেল জন কর্মচারী ভূমি অফিসে সেবা নিতে আগত লোকদের ভুল-ভাল বুঝিয়ে একটা টাকার ঘুষ খাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে কামাল স্যারের কাছে জান সমাধান হবে বলে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি তার সার্ব কবলা দলিল মূলে খরিদ করা ২ শতক জমির নামজারি করাতে গোলাকান্দাইল ভূমি অফিসে যান। দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা নায়েব কামাল হোসেন তাকে নানা রকম ভুলভাল বুঝিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ১ লক্ষ টাকায় বিষয়টি রফাদফা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে,দুর্নীতিবাজ কামাল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোনটি কেটে দেন পড়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ বার্তা পাঠালে সেটির কোন জবাব দেননি দুর্নীতিবাজ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন।
এদিকে সাংবাদিক মহলের সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছে দুর্নীতিবাজ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিশন দুদক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট ভূমি মন্ত্রণালয় দাপ্তরিক বিভাগে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক শরিফ আহমেদ বাদী হয়ে অভিযোগ পত্র দাখিল করবেন। ১৬ বছর দেশের স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে দুর্নীতিবাদের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখতে বর্তমান সাংবাদিক মহল সোচ্চার হয়েছেন।