ভালুকায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকায় চলছে স্কুল

ময়মনসিংহের ভালুকায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকায় চলছে স্কুল। “বঙ্গবন্ধু আদর্শ পাঠশালা” নামের এই স্কুলটি উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের নজুয়ারকান্দা গ্রামে অবস্থিত। এটি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল বারী মাষ্টার। প্রথম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ৫টি ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮০জন। বিনা বেতনে ৫জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করছেন স্কুলটিতে।

এলাকাবাসী জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারী মাষ্টার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, সমাজ সেবক ও শিক্ষা অনুরাগী। বিদ্যালয়টির আনুমানিক ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন স্কুল না থাকায় ওই এলাকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার আলো বঞ্চিত ছিল। এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে প্রায় একবিঘা নিজের জমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারী মাষ্টার এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে ও বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে স্কুলটির নাম রাখেন “বঙ্গবন্ধু আদর্শ পাঠশালা’’। জানাযায়, নজুয়ারকান্দা গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় মুসলিমের পাশাপাশি সনাতন ধর্মের প্রায় ১৫০ পরিবার বসবাস করেন।

তাছাড়াও দরিদ্র ও সল্প অয়ের সাধারণ মানুষের বসবাস এখানে। ফলে অনেকটা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল এলাকার বসবাসকারী শিশুরা। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় শিক্ষার আলোছড়াতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল বারী মাষ্টার। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে ভাতা পেতেন সেই টাকা স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানি ভাতা হিসেবে দিয়ে দিতেন। ২০২৩ এর ফেব্রুয়ারী মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল বারী মাষ্টারের মৃত্যুর পর স্কুলটি তার ছেলে বোরহান উদ্দিন পরিচালনা করে আসছেন। ওই অত্র স্কুলের শিশিক্ষা সেতু রানী জানান, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও দেখিনি কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতিষ্ঠিত জাতির পিতার নামে স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

তিনি এই স্কুলটি সরকারী করনের দাবী জানান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল বারী মাষ্টারের ছেলে বোরহান উদ্দিন জানান, স্কুলের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারেন না। সন্তান হিসেবে পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল বারী মাষ্টারের যে ভাতার টাকা পান, সেই ভাতার টাকা দিয়ে শিক্ষকদের সামান্য সম্মানি দেওয়া হয়। তিনি জানান, মূলত শিক্ষকরা স্কুল ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবেসে বিনা বেতনেই এখানে শিক্ষতা করছেন। ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খান শারফুল বলেন, এই এলাকাটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিলো। “বঙ্গবন্ধু আদর্শ পাঠশালা’’। এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। এই স্কুলে শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান করছেন। তিনি এই স্কুলটি সরকারী করনের দাবী জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *