শালী’র আপত্তিকর ছবি নেটে ছড়িয়ে দেয়ায় দুলাভাই গ্রেফতার

ভিকটিম মারিয়া(১৯) (ছদ্মনাম), ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী। জাতীয় জরুরী সেবা “৯৯৯” এর মাধ্যমে ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহে এসে বিবাদী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম(৩৭), পিতা- মৃত মোঃ মকবুল হোসেন খাঁন, সাং- মন্ডলসেন, ডাকঘর-বনবাংলা-২২১০, থানা- মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, বিবাদী সর্ম্পকে ভিকটিমের বড় বোনের স্বামী। এই সুবাদে উক্ত বিবাদী ভিকটিমের সাথে মোবাইল ফোন দেয় ভিকটিম দুলাভাই হিসাবে দীর্ঘদিন যাবৎ কথাবার্তা বলে আসছে।

উক্ত বিবাদী ভিকটিমের বাড়ীতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে বিবাদী কৌশলে ভিকটিমের ব্যাক্তিগত মোবাইল থেকে জিমেইল আইডি ও ফেইসবুক আইডির পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয় এবং মোবাইলে থাকা ভিকটিমের ব্যাক্তিগত আপত্তিকর কিছু ছবি নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে বিবাদী উক্ত ছবি ভিকটিমকে দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাক মেইল করতে থাকে এবং বিভিন্নভাবে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয় যে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক না করলে সে ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেবে। আর এই কথা যদি ভিকটিম কাউকে বলে তাহলে তার বোনকে তালাক দেবে মর্মে হুমকি দেয়। ভিকটিম তার বোনের সংসারের কথা চিন্তা করে উক্ত বিষয়ে কাউকে কিছু বলে নাই। উক্ত বিবাদী ভিকটিমের সাথে শারিরিক সম্পর্ক করার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে ভিকটিম উক্ত বিবাদীর কূ-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে রাগে ক্ষোভে ভিকটিমের নামে একাধিক ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলে ভিকটিমের কাছে এবং তার পরিচিতজনদের কাছে আপত্তিকর ছবি দেয়।

যা ভিকটিম গত ১৫/০৪/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ীতে অবস্থান কালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে দেখে এ সংক্রান্তে মুক্তাগাছা থানায় ০১/০৫/২০২৪ তারিখ জিডি করে।

সে ম্যাসেঞ্জার হইতে ভিকটিমের ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে বলে তার কাছে ভিকটিমের একাধিক আপত্তিকর ছবি আছে উক্ত ছবি সে বিভিন্ন পরিচিতজনদের কাছে দিবে এবং ভিকটিম যদি তার কথায় রাজি না হয় তাহলে সে উক্ত ছবি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেবে। তার এরুপ হুমকিতে ভিকটিম দিশেহারা হয়ে যায়। ভিকটিম তার পরিবারের সম্মান বাচাতে এবং তার ভবিষৎতের কথা চিন্তা করে উল্লেখিত বিষয়ে তার পরিবার এবং বড় বোন আছিয়া খাতুন (২৪)(ছদ্মনাম)’কে জানায়। ভিকটিমের বড় বোন ও পরিবারের লোকজন উক্ত বিবাদী (তথা ভিকটিমের বোন জামাই)’র সাথে ভিকটিমের ছবি ভাইরাল না করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু বিবাদী না শুনে ভিকটিমের পরিবারকে জানায় ভিকটিমের বড় বোনকে সে তালাক দেবে এবং ভিকটিমকে বিয়ে করবে। ভিকটিমের পরিবার যদি বিবাদীর সাথে তার বিয়ে না দেয় তাহলে সে ভিকটিমকে কোথাও সংসার করতে দেবে না এবং তার আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করবে এবং আরো বলে তার কাছে ভিকটিমের এই রকম আরো অনেক ছবি আছে। উক্ত বিবাদী কর্তৃক ভিকটিমের কলেজের সহপাঠিদের কাছে আপত্তিকর ছবি পাঠানোর ফলে ভয়ে লজ্জায় সে কলেজে যেতে পারছে না।

বিবাদীর কথামত ভিকটিমকে বিবাদীর সাথে বিয়ে না দেওয়ায় তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। বিবাদী তার ব্যক্তি আক্রোশ এবং অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে বাদীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানসিক নির্যাতনসহ পারিবারিক মান সম্মান নষ্ট করাসহ হুমকি প্রদান করে। তার এরুপ হুমকিতে ভিকটিম মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। তার মা ও বড় বোন বিষয়টি অনুধাবন করে নিকট আত্মীয় স্বজনের সাথে পরামর্শ করে ভিকটিমকে জাতীয় জরুরী সেবা “৯৯৯” এ কল দিতে বলে।

পরবর্তীতে ভিকটিম “৯৯৯” এর মাধ্যমে ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহের সাইবার ইউনিটে হাজির হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইং ০৩/০৫/২০২৪ তারিখ ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আলী আহমদ খান মহোদয়ের নির্দেশে ২ এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহের সাইবার ক্রাইম সেল এপিবিএন, হেডকোয়ার্টার্স এর এলআইসি/সিআইএ শাখার উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত বিবাদীর অবস্থান সনাক্ত করে অপস এন্ড ইন্টেলিজেন্স শাখা অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর তালতলি এলাকার সালেক টেক্সটাইল লিঃ হতে আটক করে। তার কাছে থাকা ০২ টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পর্যালোচনা করে ভিকটিমসহ একাধিক নারীদের অশ্লীল, কুরুচিপূর্ন ছবি এবং ০২ (দুই) টি ফেইক ফেইসবুক আইডি পাওয়া যায়।

যাতে বাদীর আপত্তিকর ছবি ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রেরণের তথ্য বিদ্যমান। পরবর্তীতে ধৃত আসামীকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানায় সোপর্দ করে। আসামীর বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮(১/২/৩) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *